সেই অদ্ভূত মুখ খানা



হুমায়ুন কবির

গোধুলী বেলায় পশ্চিম আকাশে কালচে লালাভ আলোর ছটায়
হেঁটে চলেছি পিছু যে অসম্ভব মুখটি ঢেকেছে কালো বোরখায়।

তাল গাছের কেনোর মতন সরু পথটি বয়ে গেছে কোন দূরে
দু’পাশে বিস্তীর্ণ ধানের জালার বয়স প্রায় দিন পনের হবে।

হঠাৎ পুবের পদ্মার দমকা হাওয়া খোলা বুকে লাগছে বেশ
তোমার গায়ের গন্ধ বয়ে আনে ষণ্ডা বায়ু; পথের নাই কো শেষ।

দৌড়ে যাচ্ছ তুমি লাউয়ের পুষ্ট ডগার মতো শরীরটা তোমার
যেন সামনে মহা প্রলয়; পিছনে ধেয়ে আসা মস্ত কালো পাহাড়।

সিগারেটটা অসভ্য বাতাসে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠলো আরো
হাটছি তবু একই গতিতে; প্রকৃতি যতই মঞ্চ করুক কালো।

শুভ অশুভ সকল ভাবনাকে আমি, ছুটি দিয়েছি কবে কখন
লোনা পানির ঘনত্বে ভেসে থাকা জাহাজ ডোবা নাবিকের মতন।

ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে ভয়ানক লীলায় যেন উড়িয়ে নিচ্ছে সব
বিস্তীর্ণ প্রান্তরে দু’জন যেন উত্তাল সমূদ্রে একে বারে নিষ্প্রভ।

নিরুপায় হয়ে কিশোরী বালিকার ন্যায় হঠাৎ থেমে গেলে তুমি
অতিক্রম করার সময় তোমায় যেন খেয়ালই করিনি আমি।

কাঁপা কাঁপা স্বরে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললে, ‘ভাই আমাকে নিয়ে যান’
‘ভাই-বোন নেই আমার; ভাই বানিয়ে কী কী ফায়দা লুটতে চান?’

সিগারেটে দীর্ঘ টান দিয়ে আকাশে ধোয়া ছেড়ে, ‘কান্না পেলে কাঁদুন
আমি পুরুষ আপনি নারী এই ভাবনায় যেতে পারলে চলুন’।

জানা ছিল মাইল খানেকের দূরত্বে পরিত্যক্ত প্রাসাদের কথা
যেতে যেতে কথা হলো তার তাহাজ্জুত; আমার মৃৎ শিল্পের ব্যাথা।

ভয়ানক একটা বজ্রপাতে হাতটি চেপে কাঁপতে থাকলে তুমি
ঈশ্বরে সঁপেছো সব, নরে দূরত্ব বটে; হৃদয়ে জেগে উঠে রুমি।

বললাম হেসে, ‘নারী, যে আশায় এত প্রার্থনা এত নামায রোজা
মৃত্যু ভয় তার মাঝে! তবে কার তরে এত ভক্তি! দিবানিশি পূজা!’

‘ঐ যে দেখুন জঙ্গলটার পাশেই আছে এক পরিত্যক্ত প্রাসাদ
বজ্রপাত না ছুলেও আছে কল্প কাহিনীর সাপের ভয় অগাধ।

মিষ্টি করে বললে, ‘সাপ কি প্রেমিক পুরুষ কাটে শুধু নারী দেহ?’
আমি বললাম, ‘কাটলে আমায় এ পৃথিবীতে কাঁদার নেই কেহ’।

ভিজে চুপসে সেই ভুতুরে কামরায় তিনটি ঘণ্টা সে আর আমি
কত কথা কত ভাবনা; ভয়ানক ঝড় ভুলে ঠোটের কোনে হাসি।

সন্ধ্যা ছাড়িয়ে রাত্রি হয়েছে কখন, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে তখন
পঙ্খীরাজের পিঠে চড়ে সময় হয়েছে পার মেলে ধরে পেখম।

‘এবার চলুন আপনাকে রেখে যেতে হবে আরো মাইল ছয়েক’
নেকাবটা খুলে হাতটি টেনে বললে তুমি, ‘আর একটু থাকেন’।

::: লেখক :::
প্রভাষক, ইংরেজী বিভাগ, বি এ এফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা এবং ইউটিউব কন্টেন্ট ক্রিয়েটর (English Center)।

All News

পলাশী ষড়যন্ত্রকারীদের পরিণাম

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পলাশী নামক স্থানে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন তারিখে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এই যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হন এবং ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সূচিত হয়। প্রকৃতপক্ষে এটা যুদ্ধ ছিল না, কারণRead More

ইচ্ছে

পরী