দৃষ্টিভঙ্গি

আসাদ খান

নৈতিক উৎকর্ষ বা মানসিক বিকাশের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয়, এই মূহুর্তে আমরা, আমাদের সমাজ এবং গোটা জাতি একটি চরম ও ভয়ানক নৈতিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে দিন যাপন করছি। এর ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করার মত লোকেরও বর্তমানে খুব অভাব। একদম নিম্ন পর্যায়ের টং দোকানের বা চা-সিগারেটের স্টলের কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের নৈতিক অবক্ষয় একজন অপরজনের উপর প্রভাব বিস্তার, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে হাতাহাতি, যৌনতা সংক্রান্ত ঘটনাবলী, পড়ালেখার নামে সন্ত্রাসী, ভন্ডামী, সরকারী অফিসগুলোতে দালালদের প্রকোপ, টিকিট কালোবাজারি, সিনেমা পাইরেসি, গোপনে মেয়েদের কোন বিশেষ অবস্থার ভিডিও, ইভটিজিং, সিএনজি চালকদের অস্বাভাবিক ভাড়া, রমজান মাস এলেই ভোগ্য পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া, রিকশা-চালকদের ঝগড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়ঙ্কর অস্ত্রের মহড়া ও সন্ত্রাস, সাংবাদিক হত্যা, প্রেমের নামে প্রতারণা, নারীলোভী ও ব্ল্যাকমেইলকারী চক্র, যৌনতাপূর্ণ নাইটক্লাব, ট্রাফিক পুলিশ বা সার্জেন্টদের ঘুষ নেয়া, যত্রতত্র ভবন উঠিয়ে ব্যবসা শুরু করা, ক্ষমতার অপব্যবহারে শতশত শিক্ষকের লাঞ্চিত হওয়া; গুম হয়ে যাওয়া, নিজের দেশ ও ঐতিহ্য ভুলে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও ভাবধারাকে আকড়ে ধরা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, বিশ্ববিদ্যালগেুলোতে প্রভাব বিস্তার ও হল দখল নিয়ে হানাহানি, যখন তখন হরতাল, অবরোধ কিংবা সমাবেশ; দেশের বস্ত্র শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলে ষড়যন্ত্র করতে সহায়তা করা, যখন খুশি পরিবহণ সার্ভিসের ভাড়া বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন দ্রব্য সামগ্রীর অস্বাভাবিক দাম বাড়িয়ে দেয়া; নিজের দেশের বিনোদন মাধ্যমগুলোকে অবজ্ঞা করে বিদেশী চ্যানেলগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়া, কিছু অসৎলোকের ঘুষ নেয়ার বিচিত্র প্রবণতা, যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের বদলে অযোগ্য ও সুবিধাবাদী লোকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, বোমাবাজি, অবাধে চাঁদাবাজি, ভূয়া এনজিও-সমিতি খুলে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ, প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট; সরকারের যথেষ্ট বিনিয়োগ থাকা সত্তেও ব্রীজ-ফ্লাই ওভার কিংবা রাস্তাঘাটে নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যাবহার করা। সাধারণ জনগনের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া, গাড়ি চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিং, মারামারি, বিদ্বেষ, ক্ষমতা দখল ও সবশেষে রাজনৈতিক সহিংসহা ও অস্থিরতা একটি দেশের সভ্যতার পরিচয় বহন করতে পারে না। পারস্পারিক সমঝোতা, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, প্রেম, সততা, নিষ্ঠা, পরিশ্রম, অধ্যবসায়, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিশ্বাস ও মিষ্টি হাসির মত গুণগুলোর অনুশীলন করার অভ্যাস আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যা আমাদের দেশের সভ্যতার বিপরীতে ভয়াবহ হুমকি স্বরূপ।
অজ্ঞতা, স্বল্পজ্ঞান ও নেগেটিভ দৃষ্টি ভঙ্গির মাধ্যমে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হচ্ছি প্রতিনিয়ত। তীর্যক দৃষ্টিতে না দেখে প্রতিটি বিষয়কে স্বতঃস্ফূর্ত ও সাবলীল দৃষ্টিতে দেখার অভ্যাস করা খুবই জরুরী।
যেমন ছোট্ট একটি গল্প বলি। গল্পটি অবশ্য আমার ভার্সিটির মিস আমাদের বলেছিলেন। এক জায়গায় ছিল দুই ভাই। বয়সে একজন অন্যজনের চেয়ে এক-দেড় বছরের ছোট-বড় হবে। বড় ভাইটি খুব রূক্ষ আর নিষ্ঠুর কিন্তু ছোট ভাই যথেষ্ঠ সহানুভূতিশীল এবং ভদ্র।
দুজনেই যথেষ্ঠ স্মার্ট। দুজনেরই গার্লফ্রেন্ড আছে। তো একদিন এক ক্লাবে দুই জুটি প্রেমালাপে মত্ত। তো বড় ভাইকে তার গার্লফ্রেন্ড জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা, তুমি এত নিষ্ঠুর প্রকৃতির আচরণ কর কেন?”
বড় ভাইটি বলল, “শোন, ছোটবেলা থেকেই আমি আমার বাবাকে দেখেছি- মদ খেত, জুয়া খেলত, তাস খেলত, পার্টিতে যেত আর বাসায় ফিরে আমার মা’কে মারধর করতো। তুমি আমার কাছ থেকে এর চেয়ে ভাল আর কি আশা কর? এজন্যই আমি এমন হয়ে গেছি।”
ছোট ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ডও ছোট ভাইটাকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা, তোমার ভাই এত নিষ্ঠুর প্রকৃতির কিন্ত তুমি এত ভাল আচরণ কর কিভাবে? এত ধৈর্য্য তোমার কিভাবে হল?”
ছোট ভাইটি তখন বলল, “শোন, ছোটবেলা থেকেই আমি আমার বাবাকে দেখেছি- সারাদিন ধরে মদ খেত, জুয়া খেলত, তাস খেলত, পার্টিতে যেত আর বাসায় ফিরে আমার মা’কে মারধর করতো। আর আমি ওসব দেখে দেখে নিজে নিজেই প্রতিজ্ঞা করেছি- আমি কোন অবস্থায়ই আমার বাবার মত হব না এবং ভাল গুণগুলোর চর্চা করেছি। এজন্যই আমি ভাল হতে পেরেছি।”
আমরা গল্পটি থেকে স্পষ্টতই দু’ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারি। একই বিষয়- কিন্তু বিষয়টির প্রতি দুই ভাইয়ের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিই দুজনকে দুই মেরুর বাসিন্দা করে দিল।
অতএব আমাদের সাবলীল দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হওয়া উচিত। পরিশুদ্ধ একটি দেশ, সভ্য একটি জাতি আর পজিটিভ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে এ পর্বের কলাম শেষ করছি।

লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে