বিশ্ব ও পরিবেশ

মোঃ কাউসার চৌধুরী

মানুষ একদিন প্রকৃতিকে জয় করার নেশায় মেতেছিল। প্রকৃতিকে জয় করেও মানুষের সেই নেশার অবসান হল না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ জলে স্থলে মহাশূন্যে আধিপত্য বিস্তার করল। কিন্তু মানুষের এই বিজয় মানুষকে এক পরাজয়ের মধ্যে ফেলে দিল। আজ আমরা এক ভয়ঙ্কর সংকটের মুখোমুখি। এ সংকট কোনো বিশেষ দেশের নয়, বিশেষ জাতির নয়। এ সংকট আজ বিশ্ব জুড়ে। বিশ্বের পরিবেশ আজ নানাভাবে দূষিত। এই দূষণ আজ ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ হলে মানব সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সভ্যতার ক্রমবিকাশ থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছে তার পরিবেশ। পরিবেশই প্রাণের ধারক, জীবনীশক্তির যোগানদার। পরিবেশের ওপর সম্পৃক্ত হয়ে মানুষ, অন্যান্য উদ্ভিদ ও প্রাণীÑজীবনের বিকাশ ঘটে। কিন্তু নানা কারণে পরিবেশÑদূষণ সমস্যা প্রকট হওয়ায় মানব সভ্যতা আজ চরম হুমকির সম্মুখীন। এ ব্যাপারে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ৫ জুনকে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষনা করেছে।

ভয়াবহ পরিবেশÑদূষনের কবলে পড়ে আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ শঙ্কায় ধুঁকছে। অপেক্ষা করছে এক মহাধ্বংস। আজ জলে বিষ, বাতাসে আতঙ্ক, মাটিতে মহাত্রাস। আজ বিগত ষাট বছরে ৭৬ টি বেশি প্রজাতির প্রাণী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, কয়েকশ প্রজাতির গাছপালা বিলুপ্ত। এ পরিমানে বাতাসে প্রতিবছর ২০ কোটি টন কার্বন মনোক্সাইড সঞ্চিত হচ্ছে। বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাইÑঅক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, গ্যাসের আনুপাতিক হার ক্রমশ বাড়ছে। তার ফলে বৃষ্টির জলে অ্যাসিডের পরিমান বেশি হচ্ছে। এই এসিড খাদ্যশস্যকে বিষাক্ত করছে। ধ্বংস হচ্ছে সবুজ অরণ্য। সারা বিশ্বে বর্তমান মোট ৮০ শতাংশ হল প্রীষ্ম মন্ডলীয় অরণ্য। এর মধ্যে প্রতি মিনিটে ২০ হেক্টর কৃষিভোগ্য জমি বন্ধ্যা হয়ে গেছে। প্রতি বছর ৭০ লক্ষ হেক্টর াজমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে ৪৫ হেক্টার উর্বর জমি বালুকাকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর বাতাসে বিপুল পরিমান অক্সিজেন কমছে। পরিবেশ দুষনের জন্য পৃথিবীর ৮০ শতাংশ নতুন নতুন রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ অব্যাহত থাকলে বৈজ্ঞানিকদের আশঙ্কা পৃথিবী পৃষ্ঠের উষ্ণতা এক-দ্ইু ডিগ্রি বেড়ে বা কমে যাতে পারে। এর ফলে পৃথিবীর বহু জায়গা বন্যায় ভেসে যাবে বা প্রচন্ড তুষারপাতে জমাট বেঁধে যাবে।

বায়ুমন্ডলের ওজন স্তরের আয়তন ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। ফলে সূর্যের মারাত্মক অতিবেগুনী রশ্মি প্রাণিজগতে স্পর্শ করবে।

তাই ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশে সময়মতো বৃষ্টিপাত হচ্ছে না এবং অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্ব পরিবেশে দেখা দিয়েছে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া।

আজ সবচেয়ে জরুরি, বিশ্ব পরিবেশ সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা। সচেতন করা পরিবেশ দূষনের ভয়াবহতা। পরিবেশ দুষণ থেকে মুক্তির নুতন উপায় উদ্ভাবনে ব্রতী হবে। তাই ভয়াবহ এই পরিবেশ দুষনের পরিপ্রেক্ষিতে, এ একটি নির্দিষ্ট আচরণবিধি ও কর্মকান্ডে স্বপ্রণোদিত আত্মৎসর্গের আহ্বান। যুদ্ধ নয় শান্তি, প্রকৃতির ধ্বংস নয়, তাকে শ্যামল সবুজ করে তোলা। এই হল বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব।


লেখকঃ ট্রেইনী এ্যাসিসট্যান্ট অফিসার, সীমান্ত ব্যাংক লিঃ

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে