পল্লীবালা

মোঃ আজমল হোসেন

বর্তমান সমাজে অত্যাচার, অনাচার, নীপিড়ন, অহবেলা ও মানবতর জীনবযাপন করছে গ্রাম বাংলার গৃহবধূরা। আজও তারা যৌতুকের যাতাকলে বলির শিকার হচ্ছে। যত দোষ, যত অপবাদ সব তাদের ঘাড়েই চাপে। অসহায় তারা, তাদের পাশের দাড়াবার কেউ নেই।
গ্রাম বাংলার গৃহবধুদের সকাল থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত গেরস্তির নানা কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতে হয়। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম কোন কিছুই ঠিকমত হয় না। ফজরের আযানের আগে উঠে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির নাস্তা তৈরি করতে হয়, গোবর পরিস্কার, উঠান ঝাড়– দেওয়া, সকালের খাবার তৈরি করা সহ সকল কাজ তাকে একাই করতে হয়। গৃরস্তির সবার খাওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে তাকে তাই খেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এরপর দুপুরের রান্না করে সবাইকে খাওয়ানো, কাপড়-চোপড় ধোয়া ও অন্যান্য কাজকর্ম করতে হয়। সারা দিন পরিশ্রম করে ক্ষুধার্ত পেটে গোসল করার পর তাকে দুপুরের খাবার খেতে হয়। সবচেয়ে বেশি ও চরম কষ্ট করতে হয় যখন গৃরস্তিতে ফসল উঠে। অনেক সময় তাকে সারাদিন না খেয়ে কাজ করতে হয়। এত কষ্ট করা পরও যদি স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ির কাছ থেকে ন্যূনতম আদরÑসোহগ পাওয়া যেত, তাহলে সব কষ্ট ভুলে যাওয়া যেত। গ্রাম গঞ্জের প্রায় ৮০-৯০ ভাগ পরিবারে ছেলে বউয়ের সাথে শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সম্পর্ক থাকে বিপরীতমুখী। কথায় কথায় তাদেরকে খোটা দেওয়া হয়, গালাগালি দেওয়া হয়। আবার ছেলের কাছে এটা-ওঠা বানিয়ে বলে রাগিয়ে দেওয়া হয়। ছেলেরা না বিচার করেই বউকে বেধরম মারধর শুরু করে। ছেলে যখন তার বউকে মারধর শুরু করে, শ্বাশুড়িরা তখন অনেক খুশি হয়। তারা বলে স্বামীর মার বউয়ের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। আসল কথা হচ্ছে তারাও সারা জীবন কিল-গুতো খেয়েছে, অত্যাচার অনাচার সহ্য করেছে। ফলে তারাও চায় তাদের পুত্রবধুরাও যেন কষ্ট করে, মার খায়। পুত্রবধুদের সুখ তারা সহ্য করতে পারে না। কোনভাবেই তারা পুত্রবধুদের মেয়ের মত মনে করতে পারে না। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পর মেয়েদের সারা জীবনের শখ-আহ্লাদ সব ত্যাগ করতে হয়। দাসীর মত বন্দী জীবন যাপন করতে হয়। কোন কাজে তাদের মতামত নেওয়া হয় না বা তাদের মতামতের কোন মূল্য দেওয়া হয় না।
শত অত্যাচার অনাচার সহ্য করেও তারা সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শ্বশুর বাড়িতে পরে থাকে। এই ভেবে যে একদিন হয় সুখ আসবে। এই এক দিনের সুখের আশায় তারা বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয়। আর যারা সহ্য করতে পারে না তারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে গলায় দড়ি দেয়।
যৌতুক প্রথার কারণে মেয়েদের অবর্ণনীয় অত্যাচার সহ্য করতে হয়। যৌতুক আদায়ের জন্য স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, ননদ, দেবর সবাই মিলে মারধর করে। অনেক পাষন্ড, নির্মম, নির্দয় লোক আছে যারা যৌতুকের জন্য বউকে তালাক দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।
এসব ধ্যান-ধারনার অন্যতম কারণ হচ্ছে অশিক্ষা। শিক্ষার হার যত বাড়বে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তত পরিবর্তন হবে। সুশিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ দ্বারা সবাইকে সচেতন করে গড়ে তুলতে পারলে এ সমস্যা থেকে নারীরা মুক্তি পাবে।

লেখকঃ ‍সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অডিট), লুবনান

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে