পরী


মোঃ তারিকুল ইসলাম

অরকো কি খবর? কাজ কতদূর?- এইতো ভাইয়া। – ভাইয়া এই যে। এটার পারপোরেশনের এই অবস্থা-অরকো বললো (পারপোরেশন=সিনেমার ফিতার দুই পাশের ছোট ছোট ছিদ্র)। আরে! দারুনতো?- আমি মেশিনে অনেক চেষ্টা করেও এতো সুন্দর করে পারপোরেশন বের করতে পারিনি, কয়টা ইফেক্ট দিলা? – ভাইয়া বললো (অফিসের বস)। -এইতো ভাইয়া দুইটা কার্ড নিয়েছি। একটি ব্যবহার করেছি নষধপশ করে দিতে এবং অপরটি ব্যবহার করেছি পষড়ঁৎ নধষধহপব করতে।- আমি বললাম, দারুন পড়হাবৎঃ, জটিল হয়েছে, এসো “চা” খাও। -ভাইয়া বললো। -‘মা পরী- আমাদের চা দাও। কিছক্ষন পরে যখন “চা” নিয়ে আসলো মনে হলো ক্যামন যেন একটু বাতাস এসে মুখে লাগলো। সেই বাতাসে মনে হলো সবকিছুই ওলট-পালট হয়ে গেল। মনে হলো চারিদিক থমকে গেল। কিছুই যেন নড়ছেনা। হঠাৎ একটি আওয়াজ ভেসে এল, কই গেলা—– চা নাও, —— ও ভাইয়া। না মানে এইতো, চায়ে চুমুক দিয়ে মনে হলো, এমন চা সে আগে কখনই খায়নি। একটু জোরেই বলে ফেললা, – ভাইয়া “চা” দারুন হয়েছে। – মানে কি, তুমি কি চিনি ছাড়া চা খাও? কেন ভাইয়া? – তুমি তো চায়ে চিনি নাওনি। ——ও আমি আসলে চিনি ছাড়াই “চা” খাই। পাশেই রান্না ঘর ওখান থেকে পরী সবই শুনলো আর হাসলো। পরীর মনে হলো, এই রকম বোকা ছেলে আর কখনই সে দেখেনি। যাহোক, আমিতো ছিলাম আকাশে কিন্তু যখন চায়ের দ্বিতীয় চুমুক তেতো লাগা শুরু হলো তখনই মনে হলো আমি আসলেইতো খাচ্ছি চিনি ছাড়া রং “চা”।

আবার কাজ করা শুরু করলাম। কাজ আর কাজ। সবকিছু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম যে জায়গায় দুটো “বিল কনভার্ট” করার কথা সেই জায়গায় তিনটা করার চেষ্টা করলাম। আমার মনে হচ্ছে যেই ভাবে হোক ১৬ টি রিল পড়হাবৎঃ করতে পারলেই আমি বাঁচি। কারণ ১টি ছবি তৈরি হতে লাগে ১৬টি রিল এবং এগুলোকে কনভার্ট করতে সময় লাগে প্রায় তিনদিন। কাজ করতে করতে রাত ১২:৫০ মি.। অনেক কষ্টের পরে বিকাল থেকে এই পর্যন্ত ১টি মাত্র রিল কনভার্ট করতে পারলাম। যাই হোক রাতের খাবার খেতে বসে সেই ভালোলাগা। মুখ উপরে না তুলেই খাবার শেষ করার চেষ্টা করছি।

একটু পরেই ভাইয়া বললো, তোমার কি লাগবে, মাছ দিবো?- ডাল নাও, না। বললাম, ঠিক আছে ভাইয়া। একটু পরেই ভাইয়ার একটা ফোন আসলো— ভাইয়া ডাইনিং ছেড়ে উঠে ফোন রিসিভ করতে গেল। আমি আরো লজ্জা পেয়ে গেলাম। পরী বললো, একটু ভাত দেই আমি কিছুই বলতে পারলাম না—- সে ভাত দিল, মাছ দিল, সাথে একটু আচারও দিল। পরী বললো, এখন একটু খেতে ভালো লাগবে, খেয়ে ফেলেন। সত্যিই এতো ভালো আর কখনোই লাগেনি। খাবার শেষ করে আমিই কাজ শুরু করে দিলাম। আল্লাহ্র অশেষ রহমতে দ্বিতীয় রিল এর কাজ শেষ হলো। এখন সময় ভোর ৫:০৮মি.। ভাইয়া বললো, থেকে যাও। আমি বললাম অফিসে গেলে ভালো লাগবে-তো ভাইয়া? গাড়ি চালককে আগে থেকেই বলে রেখেছিল যে, রাতে বাইরে যেতে। আমিও তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলাম। ড্রাইভার বললো, মামা আপনি কি কিছু খুঁজছেন?। হঠাৎ লাফিয়ে উঠলাম, বললাম- না, এমনিতেই—— আসলে আমার ডান কাঁধে ব্যাথা মনে হচ্ছে। চালক হেসে বললো, মন দিয়ে খুঁজেন মামা পেয়ে যাবেন।

তার কথা শুনে মনে হলো সে আসলে অন্যকিছু বুঝাতে চাইছে। সময় ভালো হলে হরিনও বাঘের নাকে সুড়সুড়ি দেয়! তখন কিছু করার থাকে না। অফিসে ঢুকে পরিষ্কার হয়ে শুয়ে পড়লাম এবং ড্রাইভার গেল প্রোডাকশন বয় এর সাথে গল্প করতে। অফিস বলে কথা, নিচে কার্পেট এবং মাথার নিচে ফোম। শুধুই পরী, চারিদিকে পরী। জেগে থাকলে তো দেখি ঘুমানোর চেষ্টা করলে আরো বেশি দেখি। দুই ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়ার পরে টেলিভিশন দেখতে বসলাম ভালো লাগেনা। একটু পরে সকালের নাস্তা নিয়ে আসলো। খেয়ে আমরা রওনা দিলাম। যেতে যেতে আবার সেই গান ‘পরী’। চারিদিকে এতো পরি তবুও শান্তি কোথাও মিলেনা।

পরীর বাসার কলিংবেলে চাপ দেবার সাথে সাথেই সে দরজা খুললো। মনে হলো সে আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল। সে এমন করে হাসি দিল মনে হলো তার হাসির সাথে আমার সমস্ত ক্লান্তি ধুয়ে গেল। আমাকে সে চোখ দিয়ে ইশারায় বুঝাল ক্যামন আছো? আমিও বললাম ভালো, তুমি ক্যামন? বলল, ভালো। ভাইয়া ভিতরের রুম থেকে জিজ্ঞেস করলো কে এসেছে মা?

পরী বললো “আব্বু কালকের ঐ ছেলেটি”। সাথে সাথে সে সরে গেল আমি ঢুকে পড়লাম। প্রথমদিন কাজ কম হয়েছে সেই অর্থে আজ কাজের প্রচুর চাপ আর মানুষ ছিলাম মাত্র দুইজন। কাজ করতে ভালোই লাগছিল। প্রায় রাত দুইটার দিকে কাজ বন্ধ করে ঠিক তখনই আমরা ভারি ভাবার খাই এবং কাজ শেষ করি রাত চারটার পর। আল্লাহর রহমতে কাজ প্রায় শেষ  হয়ে যায়। মাত্র দুইটি রিল বাকি ছিল। অবশ্য গত সন্ধ্যায় একটি মজার ঘটনা ঘটেছিল। আমি কাজ করছিলাম উত্তর দক্ষিণ দিকে মুখ করে এবং দরজা হলো পশ্চিম দিক বরাবর। আমি এখান থেকে ওর চেহারা দেখতে পাচ্ছিলাম না শুধু পা ছাড়া। দাঁড়ালাম চেহারা দেখার জন্য। একটু একটু করে পেছনে আসতেই তার চেহারার একটু অংশ দেখতে পেলাম। আর একটু পেছনে সরতেই তাকে দেখতে পেলাম। ক্ষনিকের মধ্যে চোখে চোখ হয়ে গেল, অনেক কথা। হঠাৎ মনে হলো, ভাইয়া পেছন দিকে ফিরতে পারে। এই ভেবে তারাতারি বসতে গিয়ে পায় লেগে চায়ের কেটলিটা ভেঙ্গে গেল। ভয় পেয়ে গেলাম। পরী হাসতে হাসতে শেষ আমার অবস্থা দেখে। ভাইয়া এটাকে খুব স্বাভাবিকভাবে নিলো এবং বললো, মানুষের পেছনে কি চোখ আছে যে, দেখবে পেছনে কি আছে? যাও চোখ মুখে পানি দিয়ে আসো।

তৃতীয় দিন কলিং বেল দিতেই আবার সেই মায়াবী হাসি এবং কোথায় যেন একটু চিন্তার ছাপ। ভিতরে ঢুকলাম এবং কাজও শুরু করলাম। দুপুর তিনটে নাগাদ কাজ শেষ। চলে আসবো কিন্তু তাকে তো একটুও দেখতে পেলাম না। মনটা যেন কেমন করছে। দেখলাম সে দাঁড়িয়ে আছে এবং পাশে তার বাবা। আমি চলে যেতেই ভাইয়া বললো, টাকা আছে? আমি বললাম, “আছে, লাগবেনা”। তবুও ভাইয়া বললো, তবুও নিয়ে যাও, এই বলে গোসল করতে বাথরুমে ঢুকে গেলেন। পরী হেটে এসে চুপি চুপি বললো, এই যে নেন। দুই হাত থেকে দুইটা ১০০ টাকার নোট বের করে দিয়ে বললো তাড়াতাড়ি যান। আমি বললাম, উনি ১০০ দিতে বললো আর তুমি ২০০ দিলে যে? বাবা এখানে থাকলে ডান হাতেরটা দিতাম। তিনি এখানে নেই তাই দুটোই দিলাম। আরে ডান হাতেরটাতে আমার নাম্বার আছে। রাতে অবশ্যই গবংংধমব দেবেন। আমি এক সিঁড়ি নামতেই সে বললো, হাদারাম! আমি পেছনে ফিরতেই চোখাচোখি, সাথে মিষ্টি হাসি এবং দরজা লাগিয়ে দিলে আমিও চলে আসলাম।

নদীর উপর মেলা…!

আয়েশা সিদ্দিকা

গ্রামের বাড়ি। আমার ছোট মামার বিয়ে। সন্ধ্যার মধ্যেই বিয়ের মূল অনুষ্ঠান শেষ হল। অনেকদিন পর আমরা সব কাজিনরা একসাথে হয়েছি। তাই রাতে ভাবলাম বাড়ির পিছনের বাগানে পাটি পেতে সবাই মিলে আড্ডা দিব। রাত ৮ টার সময় সবাই বাগানে চলে গেলাম। আকাশে অনেক মেঘ। তাই কিছুই তেমন ভালভাবে দেখা যাচ্ছিল না। ছোট একটা টর্চ লাইট নিয়ে এসেছিল কে যেন তাও বন্ধ করে রেখেছে। কারণ অন্ধকারে গল্প করার বেশি মজা। বাগানে নানা ধরনের ফুল ফলের গাছ আছে। আর বাগানের পাশেই আছে এক বিশাল বড় বাশঁ বাগান। দাদির কাছে শুনেছি এই বাশঁ বাগানে ভূত পেতœী আছে। আরে ধূত ওই সব ভূত পেতœী এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না।

সবাই মিলে ভালই গল্প জমেছে। ভূত বলতে কিছু বিশ^াস না করলেও মনে মনে ঠিকই ভয় করে। হঠাৎ আমার বোন মীম বলে উঠলো “ভূতের গল্প বাদ দে না। এমনিতেই অন্ধকার রাত, পাশে ঝোপ ঝাড়, আমার খুব ভয় করছে বাবা। যদি সত্যিই ভূত চলে আসে?!” ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠলাম। সবাই নানা ধরনের মন্তব্য করতে লাগলো ওর কথা শুনে। আমরা সবাই ওর কথা হেসেই উড়িয়ে দিলাম। কিছ্ক্ষুন পর আবার আমরা গল্পে মেতে উঠলাম। এমন সময় লক্ষ্য করলাম মীম কোথাও নেই। আমরা চারদিকে খুজতে লাগলাম ওকে। এক এক জন এক এক দিকে ‘মীম’-‘মীম’ বলে ডাকতে লাগলাম। হঠাৎ পাশেই এক ঝোপের মধ্য থেকে মীম চিৎকার দিয়ে উঠলো। কে নাকি ওর কাধের উপর ভর দিয়ে দাড়িয়েছে। মীম ছিল আমাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী। আমরা সবাই তো ভয় পেয়ে গেলাম। লাইট মেরে দেখি ওর পাশ দিয়ে একটা কালো ছায়া চলে গেল প্রথমে ভাবলাম হয়তো টর্চের আলোতে ওর নিজের ছায়াই ওভাবে দেখা গেছে। মীম বলল “আমি আর এখানে থাকবো না। এখানে নিশ্চয় কিছু একটা হবে তারই সংকেত এটা। তোরা দেখলি কি যেন বাশঁ বাগানে গিয়ে ঢুকলো।” নাঈম বলল, “আরে ধ্যাত, বেড়াল টেড়াল হবে হয়ত।” “আমি আর এখানে থাকব না ” তাই বলে মীম টর্চ লাইট নিয়ে দৌড়ে চলে গেল। আমাদের কারোই এখন গল্পে মন বসছে না। তাই সবাই সিন্ধান্ত নিলাম,“বাড়ি চলে যাব”। নাঈম রাজি হল না। ও বলল “এখন বাড়ি যাব না। বাইরে একটু হাটাহাটি করব।” কথা বলার সাথে সাথে আমরা কয়েকজন নাঈমের সাথে যাওযার কথা বললাম কিন্তু স্বপ্না, রাজিয়া আর নিঝুম যেতে রাজি হল না। নদীর রাস্তায় ঝোপ ঝাড়ের পাশ দিয়ে এই রাতের বেলায় ওদিকে ওরা যাবে না। তাছাড়া এখন কেউ বাহিরে যেতে দেবে না। সাথে সাথে নাঈম বলল আমরা পেছনের দরজা দিয়ে যাব। তাতে কেউ আমাদের দেখবে না। তাহলে বাবা মা ভাববে আমরা এখানেই আছি। আমরা তাড়াতাড়িই চলে আসবো। নিঝুম বলল “আমাদের কাছে কোনো লাইট নেই। লাইট ছাড়া রাস্তা দেখা যাবে না।” সাথে সাথে দৌড় দিয়ে জুম্মী লাইট আনতে গেল। তবুও ওরা তিনজন যেতে রাজি হল না। ওদের সাথে আরো কয়েকজন থেকে গেল শুধু আমরা তিনজন নাঈম, জুম্মী আর আমি গেলাম নদীর পাড়ে। যাওয়ার সময় তেমন কোন সমস্যা হল না। নদীর পাড়ে গিয়ে দেখি সেখানে কোন ঘর বাড়ি বা মানুষ কিছুই নেই। কাউকেই দেখা গেল না। হঠাৎ দূরে নদীর মাঝে একটা বাতি জ্বলছে। ভাবলাম কোন নৌকা হবে হয়ত। হঠাৎ করেই সেটা আর দেখা গেল না।

বাশঁ বাগানের সামনের রাস্তাটায় আসলে আমরা শরীফ চাচাকে দেখতে পাই। শুনেছি বহু বছর ধরে তিনি আমাদের বাড়ির রাখাল। কিন্তু তিনি এখানে এত রাত্রিতে? তাও আবার সাদা জামা পরা। উনি তো গামছা গায়েই সর্বদা চলেন। আর তাছাড়া আমরা যে বাড়ির বাইরে তা তো কেউ জানে না। তাহলে কি নিঝুমরা বলে দিয়েছে? যাই হোক ভালই হয়েছে, এখন ভয় কম লাগবে। তিনি আমাদের সাথে কথা বলছেন কিন্তু তার কন্ঠের স্বরটা খুব ভরাট। চাচাকে বললাম চলেন বাড়ি যাই। কিন্তু সে বলল, “না, এখন বাড়ি যাব না। চলো বাজারে যাই। চানাচুর ভাজা আর চা খাওয়াবো তোমাদের। এই বাশঁ বাগানের মধ্য দিয়ে বাজারে যাওয়া যায়।” আমি আমি আর জুম্মী বললাম, “এখন আর বাজারে যাব না। আমরা বাড়ি যাব।” নাঈম বলল, “চলেন চাচা আমরা বাজারে যাই।” আমি আর জুম্মী যাবার সময় পেছনে ফিরে দেখি চাচার পা দুটো উল্টো আর মাটি থেকে উপরে। তখন ওরা আমাদের থেকে অনেকটাই দুরে। আমি আর জুম্মী দৌড়ে বাড়ি চলে আসি। বাড়ি এসে দেখি চাচা বাড়িতে। তাহলে নাঈমের কি হবে? আমি আর জুম্মী এই ব্যাপারে কাউকে কিছু বলি না। সারা রাত সবাই ওর জন্য চিন্তা করে। আমরাও সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। সকাল বেলাই শুনি নাঈমকে নাকি নদীর ওপর এক ডিঙি নৌকাই জ্ঞানহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওর পাশে একটা ল্যাম্প ছিল। আর ওর ডান পায়ে এক পাশ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। আর দুই দাতের একটা কামড়ের দাগ ছিল। পরে শুনেছিলাম নদীর উপর নাকি চাচা নাঈমকে এক মেলায় নিয়ে গিয়েছিল। কি জানি রাতের গভীরে সেখানে কিসের মেলা বসেছিল !!! অবশ্য ৬-৭ মাস পর নাঈম খুব অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে