শনিবারের শনি


আশিক মাহমুদ

দিনটি ছিল ০৭-০৭-০৭। লাকি সেভেনের পুরো লাকটাই যেন আমাকে এই দিনটির কথা স্বরণীয় করে রাখতে বাধ্য করেছিল। আর একটু হিসাব করে দেখলাম সেই সপ্তাহটা ছিল আবার বছরের ২৭ তম সপ্তাহ, উফ! আবারো সেই সাত! দিনটি মনে হয় আমার জন্য সৌভাগ্য হলেও শনিবারের শনির সাথে পেরে উঠেনি। তাই আরকি দিনটিও স্বরণীয় হয়ে থাকল আমার কাছে।

শুক্রবার দিনে এক বন্ধুর বড় ভাইয়ের বিয়েতে ডিজে পার্টিতে নেচে ভুলেই গেছিলাম শনিবার দিনে আমাদের ম্যানেজমেন্ট পরীক্ষা ছিল। তখন আমরা মানে আমি, কামরুল, মৃন্ময়, তারেক, রাসা, খুবই ভাল বন্ধু ছিলাম। সকালে রাজউক কলেজে গিয়ে দেখি অনিবার্য কারণবশত সেই দিনের সকল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তখন থেকেই লাকি সেভেনের কথা আমরা বিশ্বাস করতাম। কিন্তু সেটার স্থায়িত্ব ছিল খুবই কম।

পরীক্ষা হবে না জেনে বাসায় না গিয়ে সবাই পুল খেলতে গেলাম। একটা গেমেও শেষ হয়নি এর মধ্যে মৃন্ময়কে ফোন দিয়ে জানানো হল যে তার দাদা মারা গেছে। প্রায় সাথে সাথেই আমরা সবাই ওর বাসায় যাই। আসরের পর জানাযা শেষে আমরাও রওয়ানা হলাম ওর দেশের বাড়িতে কবর দিতে। ঝিরঝির বাতাস বয়ে যাওয়া সন্ধ্যায় আমরা ট্রাক এর উপর সামিয়ানার নিচে বসে যাচ্ছি। আমরা ৫ জনসহ আরও অনেকে লাশের পাশে আর ওর চাচা, চাচারা ড্রাইভারের সাথে। সামিয়ানার নিচে আমরা সবাই নিশ্চুপ হয়ে বসে আছি। প্রায় সবাই ঘুমে ঢুলতেছি। গাড়িও চলছে খুবই ঢিলেমি করে। যদিও আশুলিয়ার সেই রাস্তায় তখন গাড়ির চাপ নেই বললেই চলে। দোয়া দরূদ পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই। হঠাৎ কামরুল আমাকে জোরে ঠেলা দিতেই আমার ঘুম ভেঙে গেল। তারপর ও কানের কাছে ফিস ফিস করে কিছু একটা বলল। কিছু না বুঝে আমি ওর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালাম। ওর বলার ভঙ্গি দেখে মনে হল অনেক জরুরী কিছু। মনযোগ দিয়ে ওর কথা শুনে দেখি কথাটি সত্য! আমরা ট্রাকের উপর, ট্রাকও চলছে কিন্তু আশেপাশের পরিবেশ থমকে আছে!!! মানে চলন্ত ট্রাকের উপর থেকে মনে হচ্ছে দুপাশের চিত্র একই মানে কিছুই নড়ছে না। আর হঠাৎ গরম বাতাসও ছুটল বলে মনে হল। আমাদের কথাবার্তা শুনে মৃন্ময়ও জেগে উঠল। ও ব্যাপরটা খেয়াল করা মাত্র ওর আব্বাকে ফোন করল কিন্তু ফোনটা বন্ধ পেল। তারপর ট্রাকের ড্রাইভারের সিটের পিছনে আমরা শব্দ করে ওর বাবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোন সাড়াশব্দ নাই। আর কি আশ্চর্য! ড্রাইভারও কি ঘুমিয়ে পড়েছে নাকি!!! তাহলে ট্রাক কে চালাচ্ছে? আমাদের চিৎকার চেচাঁমেচিতে আরও অনেকে জেগে উঠে অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে গেল। চিৎকার চেচাঁমেচি আরও বেড়ে চলল। মৃন্ময়ের এক কাজিন চলন্ত ট্রাকের জানালা ধাক্কাধাক্কি করে খুলে ওর আব্বাকে টাচ করা মাত্র ওর বাবা যেন প্রাণ ফিরে পেল। তিনি বুঝতে পেরেছেন কিছু একটা হয়েছে। খানিকপর ট্রাকের মৃদু কিন্তু ভয়ংকর গুঞ্জনও থেমে গেল। ততক্ষনে প্রায় সবাই জাগা। রাস্তা দেখে কেউ বলতে পারল না এটা কোন জায়গা। এমনকি ড্রাইভারও না। ওর বাবা, চাচারাও পর্যন্ত রাস্তা চিনল না। ভয়ে সবাই চুপ হয়ে আছে, কেউ আর নামে না ট্রাক থেকে। আর এত ঘুটঘুটে অন্ধকার যে কিছু দেখা যায় না।

হঠাৎ সাদা পাঞ্জাবী পড়া এক লোক ট্রাকের সামনে এসে উপস্থিত হল। মনে হল সে যেন মাটি ফুড়ে বের হল। ঘটনার আকষ্মিকতায় সবাই চুপ!! হঠাৎ সে গমগম কণ্ঠে বলে উঠল, “মূর্দার কষ্ট হচ্ছে মূর্দাকে শান্তি দে”। কথাটার প্রতিধ্বনিও হল কয়েকবার। হঠাৎ কেন যেন আমর শরীরের পুরো লোম দাড়িয়ে গেল। মেরুদণ্ড দিয়ে কিছু একটা বয়ে গেল হিমশীতল হয়ে। খেয়াল হতেই তাকিয়ে দেখি সেই লোকটা উধাও!!! পরক্ষনে মৃন্ময়ের বাবার গলার আওযাজ পেয়ে দেখলাম সে ট্রাকের উপর এসে লাশের পাশে বসে পকেট থেকে মোবাইল বের করছে। তার দেখাদেখি আমিও মোবাইল বের করে দেখলাম রাত ১১:৫৭ বাজে। কিন্তু আমরাতো এতক্ষনে পৌছে যাবার কথা। পরে শুনি আজ অনেক ফোন করাতে আঙ্কেলের ফোনে চার্জ ছিল না। পরে মৃন্ময়ের ফোন দিয়ে ওদের এলাকার ইমামকে ফোন করে মূর্দাকে ঠিকমত শোয়ানো হল। দোয়া দরূদ পড়ানো হল। পরে দূরে দেখলাম একটা ট্রাক আসছে। কাছে আসতেই গন্ধ শুঁকে টের পেলাম এটা মাছ বহন করার ট্রাক। আমাদের ড্রাইভার তাকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিল আমাদের ঠিকানা। আমরা ভুল রাস্তায় চলে গেছিলাম।

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে