ন্যাতোর মা


মো: আসলাম হোসেন

আমি তখন ক্লাস সেভেন এ পড়ি! আমাদের বাড়ীর পশ্চিম পাশের বাড়ী নারায়ন হলদারের। উভয় বাড়ীর দক্ষিণে বিশাল বাঁশবাগান। বাঁশ বাগানের সাথে অবস্থিত ওদের রান্নঘরে কদিন আগে নারায়ন হলদারের বউ ন্যাতোর মা গলায় দড়ি নিয়ে মারা গিয়েছে। এরপর থেকে ভয়ের অপ্ত নাই। রাত্রে ঘর থেকে বের হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে আমার। বাড়ীর দক্ষিণ দিকের ঘরের দুইটা খাটে আমি এবং আমার সেঝ ভাই ঘুমাই। সব সময় কেমন যেন একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকি। একদিন খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গেছে। ফজর এর নামাজ পড়ব বলে উঠব ভাবছি। এমন সময় ওদের রান্নাঘরের কোনার বাঁশঝোপ থেকে একটা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। উঁয়ূ উঁয়ূ উঁয়ূ……..। ভাবলাম ওদের কোন ছেলেমেয়ে মায়ের জন্য কাঁদছে। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও লক্ষ করে দেখলাম শব্দটা বাঁশঝোপের ভেতর থেকে আসছে এবং আওয়াজটা আসছে একটু উচু থেকে। অর্থ্যাৎ বাঁশের উপর থেকে। ভয়ে আমার সমস্ত গায়ের কাঁটা খাড়া হয়ে গেল। ভয়ে জড়সর হয়ে শুয়ে থাকলাম বিছানা থেকে আর উঠলাম না। এমনকি ভয়ে জানালাটা বন্ধ করতেও সাহস হল না। এভাবে অনেকক্ষণ যাবৎ উুঁ-উুঁ-উুঁ করে কাঁদতে থাকল। চারিদেকে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত। সকালবেলা সবাইকে বললাম ব্যাটারটা। একেকজন এক এক রকমের মন্তব্য করতে লাগল। ‘অপমৃত্যু’ তাও আবার গলায় দড়ি নিয়ে। কম কষ্ট? ওর আত্মাটা শান্তি পাচ্ছে না। কেউ বলতে লাগল এতগুলো ছোট ছেলেমেয়ে রেখে মরেছে তো তাই ওদের মায়া ছেড়ে যেতেও পারছে না, আবার কষ্টও সইতে পারছে না। তাই ওভাবে বিনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে। এসব শুনে ভয়ে আমি অস্থির হয়ে পড়লাম। দিনের বেলাতেও একা কোথাও যেতে সাহস পাচ্ছিলাম না। রাত হল। আমার ঘরে গিয়ে পড়তেও বসলাম না। আমার সেঝ ভাই আগাগোরাই একটু সাহসী ছিলেন। বললেন চল্ আমি বসে থাকব তুই পড়তে বসবি। আমি পড়তে বসেছি পাশে সেঝ ভাই বসা। খোলা জানালা দিয়ে বাইরে দেখলাম নিরেট অন্ধকার। মন পড়ার টেবিলে কিছুতেই বসাতে পারছি না, খুব আতঙ্কে আছি। হঠাৎ করে কান্নার আওয়াজ আসতে শুরু করল। আমি ভয়ে ভয়ে সেঝ ভাইকে বললাম। ঐ শুনুন কাঁদছে। সেঝভাই খেয়াল করে শুনে বললো তাইতো। একে একে বাড়ির সবাই এসে হাজির হল আমার ঘরে। সবাই কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছে। অনেকের চোখে মুখে ভয় বা আতঙ্ক! একেক জন এক এক কথা বলছে। হঠাৎ করেই সেঝ ভাই বললেন ঠিক আছে দেখছি কে কাঁদে। সবাই কিছুটা শিউরে উঠলো বলে কি? ভূতটা যদি বাঁশ বাগানের মধ্যে ধরে ঘাড়টা মটকে দেয়? কারো কোন কথায় কর্ণপাত না করে সেঝ ভাই বড় একটা টর্চলাইট নিয়ে গেট দিয়ে বেরিয়ে বাঁশ বাগানের মধ্যে চলে গেল ঠিক কান্নাটা যেখান থেকে আসছিলো। যেয়ে টর্চ লাইটটা দিয়ে এদিক ওদিক আলো টর্স করতে লাগলো। ইতিমধ্যে পড়সি আরো ২/১ জন উৎসুকভাবে সেঝভাই এর পিছে গিয়ে দাড়িয়েছে। হঠাৎ করেই সেঝ ভাই বলে উঠলেন ঐযে ঐ, ঐতো চোখ কেমন লাইট এর মত জ্বলজ্বল করছে দেখেছো। সবাই বলল হ্যাঁ; হ্যাঁ; ঐইতো। ঐটাতো একটা নেউল!(বেজী জাতীয় নিশাচর বণ্য প্রাণী)। মুরুব্বীরা তখন বলতে লাগলেন হ্যাঁ নেউল মানুষের কান্নার মত করে উুঁ উুঁ করে রাত্রে ডেকে থাকে।

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে