কালী পাড়ার জমিদার বাড়ি


আফসানা অনন্যা খান

বহুদিন পড়ালেখার জন্য বাড়ি থেকে দুরে থাকার পর ঠিক করেছিলাম বন্ধুদের নিয়েই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাবো। যেই বলা সেই কাজ … ঠিক করলাম রাখি, সারা ও আবিরকে নিয়ে রওনা দেব সিলেট এর উদ্দেশ্যে। সিলেট কালীপাড়াতে আমার বাড়ি। সেইবার বাড়িতে যে ঘটনা আমার মনে এখনো দাগ কাটে সেই ঘটনা মনে পরে গেল:

সিলেট স্টেশন এ পৌছে সেখান থেকে মাইক্রোতে উঠে হারিয়ে গেলাম কল্পনার রাজ্যে…….

বন্ধুদের নিয়ে নিজ ঘরে ফেরা যে এতটা আনন্দের তা আগে কোনদিন বুঝতে পারিনি। তবে পাহাড়ি পথে গাড়িটা খুবই হেলে দুলে যাচ্ছে। তবে আমার মনে মনে রাগ হচ্ছে Ñ আব্বু নিজে না এসে শুধু গাড়ি পাঠালো কেন??

অ্যানা, এই অ্যানা … কি ভাবিস এত?- রাখি।

হ্যাঁ ? না কিছু নারে- অ্যানা।

গ্রামে হয়ত কাউকে ফেলে রেখে গিয়েছিল- সারা।

নে, তোদের আষাঢ়ে গল্প রাখ্। আমরা সধু নব চলে এসেছি- আবির।

বাড়িতে ফিরে প্রথমেই কুশল বিনিময় করলাম। বিকেলে চারজনে বেরোলাম গ্রামটা ঘুরে দেখার জন্য, সাথে নিলাম চাচাতো ভাই আলীকে। মেঠো পথের উপর গাছ হেলে পড়েছে। কিছুটা নিরিবিলি এলাকাতে চলে এসেছি।

আলী বাড়িটা কাদের রে?- অ্যানা।

ভুলে গেলি নাকি। এটা কালীপাড়ার পুরোনো জমিদার বাড়ি। বাড়িটা সম্পর্কে ভাল কোন গল্প প্রচলিত নেই। -আলী।

আরে তাই নাকি? দারুন তো..- রাখি।

আচ্ছা গল্পটা কি বলো দেখি?-আবির।

অনেক আগের এই জমিদার ছিল অত্যাচারী আর নিষ্ঠুর। বহু সাধারন প্রজা তার অত্যাচার সহ্য করে নির্বিশেষে প্রাণ হারিয়েছে। এভাবে মৃত্যুর পর অভিশপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায় এই বাড়িতে। আর সাধারন প্রজার অতৃপ্ত আতœা প্রতিশোধের নেশায় ছুটে আসে। সন্ধার পর কাউকে এদিকে দেখা যায় না। এখানে রাতে এসে অনেকে অনেক বিপদে পড়েছে। -আলী।

বল কি? চলো বাড়ি ফিরি… বিকেল তো হয়েই এসেছে। এসবে না জড়ানোই ভালো।- সারা।

র্ধু, তোরা মেয়েরা না একটু বেশিই ভীতু।- আবির।

বাজে বক্বি না আবির। -রাখি।

আচ্ছা বাদ দে তো। সারা তুই একটু বেশি ভয় পাস। ংপরবহপব এ পড়ে এগুলো বললে হয়??? এগুলো নিছকই লোক-কাহিনী।-অ্যানা।

একটা খোঁড়া কুকুর বাড়িটা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের দিকে দেখে আবার ভেতরে চলে গেল। সবাই কুকুরটার দিকে তাকিয়ে রইলাম ভেতরে না যাওয়া পর্যন্ত। এবার আবিরও কিছুটা ভয় পেল।

এগুলো নিছক লোক-কাহিনী নারে সবই সত্য।- আলী।

আচছা বাবা আচছা, সত্য।- অ্যানা।

চষবধংব বাড়ি চ্ল।-সারা।

আচছা চল।-আলী।

মনে মনে আমি দারুণ আগ্রহী হয়ে উঠলাম ব্যাপারটা নিয়ে। পরদিন শেষ বিকেলে আমি আর রাখি গেলাম জমিদার বাড়িতে।

চ্ল। ভেতরে ঢুকে দেখি। -অ্যানা।

যাবি? চল যাই, মেয়েরা নাকি ভীতু। আজ দেখিয়ে দেবো।-রাখি।

আরে না। এজন্য না। ঐ বিষয়টা কি আসলেও সত্য হতে পারে কিনা তা জানার ইচছা আমার। -অ্যানা।

প্রায় সন্ধা নেমে এল। ভেতরে যেয়ে দেখি দামী দামী আসবাবপত্র মাকড়সার জালে ছেয়ে আছে। এখানকার মানুষ গুলো এইসব বিশ্বাস করে বলেই এখোনো এগুলো আস্ত আছে, চুরি হয়নি।

দেখ্ একটা ঘরে আলো ও ফ্যান দুটোই জ্বলছে।-রাখি।

কেউ থাকে নাকি! কই আলী তো তেমন কিছু বলল না। চ্ল কাছে যেয়ে দেখি।- অ্যানা।

না তুই বরং যা আমি এদিকটা দাড়িয়ে খেয়াল রাখি।-রাখি।

আচছা তুই তবে দাড়া।- অ্যানা।

পাঁচ কদম এগিয়ে যেতেই করিডোরের দেয়ালে একটা মানুষের ছায়া দেখতে পেলাম, ভাবলাম হয়ত কেউ থাকে এই বাড়িতে। ভালোই হবে বাড়িটা সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা যাবে। হঠাৎ সামনে তাকিয়ে দেখি আলো জ্বলা কোন ঘর নেই। সাথে সাথে পিছনে ফিরে দেখি রাখি নেই।  ‘রাখি’। ‘রাখি’- অ্যানা। একটু থমকে গেলাম। গায়ের লোম এখন কিছুটা খাড়া হয়ে যাচ্ছে। বুকের ভেতর ডিপ ডিপ করছে তাও অনুভব করছি। পাশের ঘর থেকে একজন লোক হারিকেন হাতে বেড়িয়ে এল।

কি ব্যাপার? কি হয়েছে? কে তুমি?- লোকটি।

আমি! মোহাম্মদ মাস্টার এর মেয়ে। বহুদিন পর গ্রামে ফিরেছি।- অ্যানা।

ওঁ…।- লোকটি।

মাত্রই দেখলাম লাইটের আলো অথচ এখন দেখে মনে হচ্ছে কখনো এ বাড়িতে বিদ্যুৎ এর আলোই জ্বলেনি!!!

তা কি চাও এখানে?- লোকটি।

মানে.. আপনি কি এখানেই থাকেন?- অ্যানা।

হ্যাঁ- লোকটি।

আমি আমার বন্ধুর সাথে বাড়িটা দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু ওকে পাচ্ছিনা। আপনি একাই থাকেন এখানে?- অ্যানা।

হ্যাঁ। সেই কবে থেকে একা। প্রায় ১৮ যুগ কারো দেখাই পেলাম না। আজ তুমি এলে।- লোকটি।

আঠ্ঠারো যুগ!!!!!- অ্যানা।

না মানে কথার কথা।- লোকটি।

আচ্ছা, রাখি? রাখি কই?- অ্যানা

আছে কোথাও।- লোকটি।

চল বসবে। একটু কিছু খেতে দেই তোমায়। হাজার হলেও তুমি আমার অতিথী।-লোকটি।

না। আমি রাখির কাছে  যাব।- অ্যানা।

আরে চলে আসবে ওঁ।- লোকটি।

অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাশের ঘরে বসতে হল। কিন্তু পেয়ালাতে লাল রং এর কি খেতে দেয় লোকটা?

নাও ধর।- লোকটি।

এটা কি? – অ্যানা।

খেয়েই দেখ। দারুণ স^াদ। আমি মাত্রই খেলাম। -লোকটি।

কাছে নিয়ে দেখি তাজা রক্ত। বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে উঠল। ওদিকে রাত নেমে এসেছে।

না না আমি এসব কিছু খাই না।-অ্যানা।

কেন?- লোকটি।

আমি রাখিকে নিয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।- অ্যানা।

তা যেও।- লোকটি।

কান্না আসছে। কন্ঠ জরিয়ে আসছে।

না এখনি যাব।- অ্যানা।

   ওদিক থেকে পিয়ানোর আওয়াজ আসেেছ। আমি অস্থির হয়ে উঠলাম।

কে বাজায়? আপনি না বললেন একা থাকেন?? আমি বাড়ি যাব…  -অ্যানা।

এত দিন পর মানুষ পেলাম এত সহজে ছেড়ে দেব? এত সহজে তো ছাড়বো না।- লোকটি।

আমি রীতিমত ঘামতে শুরু করেছি। অস্থির হয়ে দৌড় দিতেই আমার হাত খাম্চি দিয়ে ধরল। আমি চিৎকার দিলাম। প্রতিধ্বনি হতে লাগল। হঠাৎ জ্ঞান হারালাম। এরপর আর কিছুই মনে নেই।

চোখ খুলে দেখি বাড়িতে শুয়ে আছি। নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখলাম একটা খামচির দাগ। সকালে বাড়ির সামনে থেকে পাওয়া গেছে আমাকে আর রাখিকে। রাখি গুরুতর আহত, অসংখ্য খামচির দাগ আর রক্তাক্ত। রাখিকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তখন বুঝতে পারলাম রাতে হয়তো আমাকে রাখির রক্তই দিয়েছিল। আল্লাহর ইচ্ছায় দুইজনই জীবিত ছিলাম। ঐ রাতের কথা ভাবতে গেলে এখনও গা শিওরে ওঠে। আসলে কি হয়েছিল ঐ রাতে তা আমি জানিনা। কল্পনা হলে হাতের দাগ কি ছিল ???

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে