কল্পনাতীত

মো. আজমল হোসেন

আমার বয়স তখন ১৪-১৫ বছর হবে। ৭ম অথবা ৮ম শ্রেণীতে পড়ি। গ্রীষ্মের ছুটি পেয়ে মামা বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। পরদিন সকালে আমার ছোটবেলার গ্রাম্যবন্ধু জাকিরের বাড়িতে গেলাম তার সাথে দেখা করতে। অনেকক্ষন দু’জন মিলে গল্প করার পর বিদায় নিয়ে আসতে যাব, হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হল। কি আর করার..!! জানালার পাশে বসে বৃষ্টি দেখছিলাম। হঠাৎ টেবিলের উপর চোখ গেল, দেখলাম একটি পুরোনো বই পড়ে আছে। হাতে নিয়ে দেখলাম, বিভিন্ন দোয়া লেখা আছে বইটিতে। পড়তে ইচ্ছে হল। শিরোনামে চোখ বুলাতে লাগলাম। এক জায়গায় ভূত তাড়ানোর দোয়া দেখতে পেলাম। সাথে সাথে দোয়াটি মুখস্ত করে ফেললাম (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যুল আজিম)। অনেকক্ষণ পর বৃষ্টি থামল। জাকিরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসলাম আর মনে মনে দোয়াটি বারবার পড়তে লাগলাম যেন ভুলে না যাই। ঐ দিন বিকেলে ঘরে একা একা বসে আছি। ভাবছি কি করা যায়? ঠিক করলাম বাজার থেকে ঘুরে আসি। মামা বাড়ি থেকে বাজারে যেতে প্রায় ৮-১০ মিনিট সময় লাগে। বাজারে গেলাম। ঘুরে ঘুরে বাজার দেখছিলাম। ভেবেছিলাম ঢাকা-শহরের মত এখানেও রাত ১০-১১ টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। মাগরিবের আযান দিল। দেখলাম ১টা ২টা করে আস্তে আস্তে সব দোকান বন্ধ করে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে যেতে লাগল। তখন একটু ভয় লাগছিল এই ভেবে যে, একা একা কিভাবে যাব?

দেখলাম আমার সামনে দুইজন লোক মামা বাড়ির দিকে যাচ্ছে। তখন একটু সাহস পেলাম। তাদের পেছনে পেছন হাটতে লাগলাম। প্রচুর অন্ধকার। তখনও ঐ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌছেনি। সড়ক দিয়ে হেটে চললাম। সড়কের ডানপাশে বাড়িঘর। বামপাশে নদী। মাঝে দু’একটা বাঁশঝাড় আছে। খুবই ভয়ংকর এক পরিবেশ। ঠান্ডা বাতাস বইছিল। বাতাসে বাঁশঝারের আওয়াজের কারণে পরিবেশটা আরও ভয়ংকর হতে লাগল। সামনে দু’জন লোক থাকায় ভয় কিছুটা কম। ১ মিনিটের মত হাটার পর পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার থেকে ২০-২৫ হাত দূরে ৮-১০ ফুট লম্বা অদ্ভূত চেহারার এক ভয়ংকর লোক আমার পেছন পেছন হাটতেছে। তাকে দেখেই মনে প্রচণ্ড ভয় ধরে গেল। এত লম্বা কাউকে এর আগে কখনও দেখি নাই। কিছুক্ষন হাটার পর সামনের ১জন লোক ডানদিকে চলে গেল। সম্ভবত তার বাড়িতে। পেছনে তাকিয়ে দেখি বিশালাকার লোকটি ১৫-২০ হাত দূরে চলে আসছে। সামনের লোকটি চলে যাওয়ার পর ভয় একটু বেড়ে গেল। আর একটু যাওয়ার পর বাকী যে একটি লোক ছিল সেও ডান দিকে তার বাড়িতে চলে গেল। প্রচণ্ড ভয়ে হাত পা থেমে আসছিল। অন্ধকার আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল। পেছনে তাকিয়ে দেখি লোকটি ১০-১২ বার হাত দূরে চলে আসছে। কি করব বুঝতে পারিছলামনা। হঠাৎ ভূত তাড়ানোর দোয়াটি মনে পড়ে গেল। সাথে সাথে দোয়াটি পড়ে পেছনে তাকিয়ে দেখলাম কেউ নেই। তারপর দিলাম এক ভো দৌড়। এক দৌড়ে সোজা বাড়িতেহ।

আজও মাঝে মাঝে সেই ভয়ংকর দৃশ্য স্মৃতির পাতায় দোলা দেয়।

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে