আঁধার রাতের বানরমুখো

আঁধার রাতের বানরমুখো

আয়শা চৌধুরী নাদিয়া, পটোম্যাক ফলস হাই স্কুল, ভার্জিনিয়া, ইউ. এস. এ  

এক অন্ধকারময় রাতে নিজের ফুলের বাগানে পায়চারী করছিলেন মিঃ স্মিথ। হঠাৎ তিনি বাগানের এক কোনায় একটি গর্ত দেখে চমকে উঠলেন কারণ গর্তটি থেকে আলোর ঝলকানি বের হচ্ছিল। তিনি কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে সেখানে একটি ল্যাম্প দেখতে পেলেন আর তার পাশেই কাপড়ে জড়ানো অনাকাঙ্খিত একটি বস্তু। নিরব, নীস্তব্ধ চারপাশ। তিনি একবার চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিলেন। কোথাও কেউ নেই। যখন সে কালো কাপড়টি খুলতে শুরু করল, আচমকা ভারী ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করল। সে খুলল এবং দেখল এটা ছিল একটা বানরের খুর। সে একটি ছোট চিরকুটও দেখতে পেল যাতে কিছু একটা লেখা ছিল আর তা পড়তেও শুরু করল। এতে লেখা ছিল,- “think wisely before wish.” and “wish for twice only.”

মিঃ স্মিথের তো অস্থির অবস্থা। তিনি ইচ্ছা পূরণের জন্য চিন্তা করতে থাকলেন। উনি দেখতে চাইলেন এটা সত্যিই কিনা। তিনি একটি রোগমুক্ত পৃথিবী চাইলেন। তিনি তখন তার বাড়ির ভেতর গেলেন এবং তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েেেদর বানরের খুরটি দেখালেন এবং তার ইচ্ছার কথা তাদেরকে বললেন। তার ছোট্ট মেয়েটি অসুস্থ ছিল। মিঃ স্মিথ ভেবেছিলেন হয়তো এই ইচ্ছা পূরণের মাধ্যমে তার মেয়েটি সুস্থ হয়ে উঠবে। তারপর সবাই ঘুমিয়ে পড়লা। পরদিন সকালে তার ছোট্ট মেয়েটি মারা গেল। মিঃ স্মিথ পরিস্থিতিকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। কারণ তার মেয়ে মারা যাওয়ার মত অসুস্থ ছিল না। তিনি তার মেয়ের দিকে আরেকবার তাকিয়ে দেখলেন মেয়েটির উপরে একটি বানরের ছায়া। এটি দেখে তার সেই ইচ্ছার কথা আবার মনে করল। তিনি ভয় পেলেন যদি সব অসুস্থ মানুষ এভাবে মারা যায়! তিনি তার স্ত্রী কে ডাকলেন কিন্তু ওপাশ থেকে কোন জবাব এল না। তার স্ত্রী তখন রান্নাঘরে ছিলেন। তিনি সেখানে গেলেন আর তাঁর স্ত্রীকেও মৃত দেখতে পেলেন কারণ তার ইনফ্লুয়েঞ্জা ছিল। তার ছেলে তার সাথেই ছিল। ছেলেটি মায়ের মৃত্যুতে ব্যথিত হয়ে বাবার সামনেই প্রাণ ত্যাগ করল।

মিঃ স্মিথ তার স্ত্রী আর ছেলের লাশের উপরও সেই বানরমুখী ছায়াটা দেখতে পেলেন। তিনি পাগল হয়ে উঠলেন। পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক হয়ে উঠছিল তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। তিনি তার বাড়ি থেকে দৌড়ে বের হলেন সাহায্যের জন্য। কিন্তু যে যেখানেই ছিল সবাই ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছিল। কেউ কাউকে সাহায্য করার বা সাহায্য পাওয়ার সময় সেটা ছিল না। তিনি সব লাশের ওপরই বানরমুখী সেই ছায়া দেখতে পেলেন। তার চোখ ভাল দেখতে পাচ্ছিল না। সবকিছুই দ্রুত বদলে যাচ্ছিল। তিনি ভাবতে পারছিলেন না যে তিনি কি করেছিলেন। হঠাৎ তার মনে পড়ল আরও একটি ইচ্ছা পূরণ করা বাকি আছে। তিনি তার বাড়ির দিকে ছুটলেন এবং সেই বানরের খুরটা হাতে নিলেন। সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। কিন্তু হঠাৎ তার বাড়িটা কেঁপে উঠল। মড়মড় করে ভাঙতে শুরু করল ঘরের দেয়াল, কাঠের টুকরো আর খুঁটিগুলো। তিনি মাটির দিকে ঢুকে যেতে শুরু করলেন। তিনি হারিয়ে যাচ্ছেন গভীর থেকে গভীরে। তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল দরদর করে ঘাম ঝড়ছিল তার কপাল থেকে। মৃত্যুকে ভালোবেসে তার কাছে আতœসমর্পন করে যেই না তিনি চোখ বুজেছেন ঠিক তখনি তার স্ত্রীর  কন্ঠ শুনতে পেলেন।

তার স্ত্রী তাকে সকালের নাস্তার জন্য চিৎকার করে ডাকছিলেন। লম্বা আর খুব ঘুমের পর দরদর করে ঘামছিলেন। মিঃ স্মিথ যদিও কিছুটা স্বাভাবিক ছিলেন। তিনি তার পিঠে ও মাথায় ব্যাথা অনুভব করলেন। তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন এবং যা যা দেখেছিলেন সে সর্ম্পকে ভাবছিলেন। তিনি বিছানা থেকে উঠলেন ও নিচতলায় নাশতার টেবিলে গেলেন। সবাই টেবিলে সকালের নাশতা করছে। তিনি ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলেন। আগের রাতে দেখা সিনেমার থীম নিয়ে মজার তর্ক করছিল তার ছেলে-মেয়ে দুটো। তার স্ত্রী রান্নাঘরে রান্না করছিল। তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন তাই এক সেকেন্ডও আর ঘরের ভেতর থাকতে পারলেন না। তাই বের হয়ে সম্পূর্ণ বাগান চষে বেড়ালেন। কিন্তু কোথাও কোন গর্ত দেখতে পারলেন না। তিনি ভাবলেন পৃথিবীতে সবকিছুই স্বাভাবিক ভাবেই রয়েছে। এর অপরূপ প্রকৃতির কোন পরির্বতন প্রয়োজন নেই। তাই অপ্রাকৃতিকভাবে কোন ইচ্ছা পূরণের প্রয়োজন নেই। মানুষ তাদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না আর সুস্থতা ও অসুস্থতা নিয়ে পৃথিবীতে একটি সঠিক নিয়মের মধ্যেই রয়েছে। বাস্তবিক ক্ষেত্রে এই পৃথিবীতে যা ঘটে তা অবশ্যই কোন না কোন তাৎপর্য বহন করে।

তবু তিনি আর একবার সম্পূর্ণ বাগানটা ঘুরে দেখলেন। হঠাৎ বাগানের একটা কোণায় মাটি নরম বলে মনে হল। তিনি পা দিয়ে আলতো চাপ দিতেই বেড়িয়ে পড়ল একটি গর্ত। আর তার ভেতরে কালো কাপড়ে মোড়ানো কিছু একটা জ্বলজ্বল করছে। মি. স্মিথ বাগানের অন্য প্রান্ত থেকে কিছু মাটি এনে গর্তটি ভরে দিলেন। কিন্তু ততক্ষণে মড়মড় করে ভাঙতে শুরু করল পেছনে থাকা দোতলা বাড়িটি। চিৎকার করতে করতে বেড়িয়ে এল তার স্ত্রী ও দুই  সন্তান। তারপর শুরু হল স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প…

All News

বিয়ে কি, কেন এবং কিভাবে করবেন?

এ বি এম মুহিউদ্দীন ফারাদী (পর্ব-১, ভূমিকা) বুঝ হওয়া মাত্র প্রত্যেক ছেলে-মেয়ে কল্পনার মানসপটে চুপিচুপি এমন একজনের ছবি আঁকে এবং আনমনে এমন একজনের কথা ভাবে, যাকে সে একান্ত আপন করে কাছে পেতে চায়। মনের অজান্তে তাকে ঘিরে রচিত হয় স্বপ্ন প্রাসাদ। কে হবে তার সুখ-দুঃখের চির সাথী, বন্ধু ও প্রিয়জন?Read More

ইচ্ছে